বন্ধুরা মিলে হাওর অঞ্চল ঘোরাঘুরি হলো। মিঠুল হাওয়া-মিষ্টি রৌদ্র আর গ্রামীণজীবন। বলার মতন তেমন কিছু না।
একটা ছেলে এসে ভোর ভোর জাল ফেললো। তাতে উঠলো ছোট্ট কালবাঊশ, রূপালী সরপুটি, রাণী মাছ। হুড়মুড় করে এসে আরেক অল্পবয়সী সুঠামছেলে নেমে গেলো হাওরে। চাবুক অবয়ব, জীবনযাপনের সিক্সপ্যাক তার শরীরে। মেগাশহরে এমন একটি শরীর তৈরীতে জিমগুলো অনেক টাকা নেয়, আরো তো আছে মোটা অংকের ক্লাব মেম্বার ফী, পুষ্টিবিদেরা দেয় ডায়েটচার্ট।
বিশুদ্ধ ভোরে আরেকজন বেরিয়েছে স্রোতের বিপরীতে, ডিঙি নৌকা নিয়ে, সোজা মেরুদন্ডে একহাতে বাইতে বাইতে বহুদূর… বিন্দু হয়ে গেলো তবু বৈঠার হাত বদলালোনা। ওদের ইয়োগা শিক্ষা নেই, শ্বাসব্যায়াম কি.. জানেনা।
প্রৌঢ়া এক মহিলা, খাড়া ঢালুপাড়ে জানুশিরাসন ভঙীমাতে এক ধ্যানে ছিপ নিয়ে বসে আছে তো আছেই…একটা একটা মাছ উঠবে, সংসারের দরকার মতন যোগাড় হলে সেই দিনকার মতন অর্গানিক বাজার তার শেষ।
যে মাঝিভাই এখানে এনে দিলো আমাদের, তাকে জিগ্যেস করেছি, এই হাওরে কতদূর যেতে পারবেন। বলেন,”সারাদিন সাঁতরাইতে পারবাম”
উদ্ধার করতে পারবেন কাউকে?
“নিজের বাঁচন আগে।পানিতে পড়লে মাইনষের হুশজ্ঞান থাহেনা তো” সোজা সত্য উত্তর।
আমরা শহরবাসীরা… শরীরের ওপর সবপ্রকার অনিয়ম অত্যাচার করে চটজলদি আরামদায়ক “ষোল আনা মিছে” জীবন বেছে নিয়েছি।
কি আত্মা, কি ভেতরের কলকব্জা…শরীরের ভেতর নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নাই,যত ব্যয় ও ব্যস্ততা আমাদের শরীরখান সাজাতে।
আর তারপর কিছু গড়বড় ঘটলে রওয়ানা দেই…রথ দেখতে কলা বেচতে…মাঊন্ট এলিজাবেথ-বামরুণগ্রাদ।