মেলবোর্ন টু পার্থ রোড ট্রিপ

Avatar

Byসৈকত মুহুরী, অস্ট্রেলিয়া

Mar 18, 2024 #অপরূপ, #অস্ট্রেলিয়া, #অ্যাডিলেড, #আউটব্যাক, #আকাশ, #আর্ট গ্যালারি, #উপভোগ্য, #ওয়েভ রক, #কফি, #কারাগার, #ক্যাফে, #ক্যামেরা, #খ্রীষ্টমাস, #গাড়ী, #ঘুরাঘুরি, #ঘুরুঞ্চি, #ঘোরাঘুরি, #ছুটি, #জিপসাম, #জেলখানা, #টায়ার, #ট্রাভেল, #ডারউইন, #ডে ট্রিপ, #নদী, #নুলারবার প্লেইন, #ন্যাশনাল পার্ক, #পরিকল্পনা, #পরিবেশ, #পর্যটক, #পাংচার, #পার্থ, #পিনাকল ডেজার্ট, #বিচ, #বেড়ানো, #ব্রিসবেন, #ভারত, #ভিক্টোরিয়া, #ভোর, #ভ্রমণ, #ভ্রমন, #মরুভূমি, #মহাসাগর, #মেলবোর্ন, #রিফুয়েল, #রেল, #রোড ট্রিপ, #শহর, #সকাল, #সন্ধ্যা, #সংরক্ষিত, #সল্ট লেক, #সাইল আর্ট, #সাঁতার, #সিডনি, #সুরক্ষিত, #সূর্যাস্ত, #সূর্যোদয়, #সৈকত, #সৈকত মুহুরী, #সোনার খনি, #সৌন্দর্য, #হোটেল

অস্ট্রেলিয়া আসার পর থেকে সবসময় মনের মধ্যে ঘুরে বেড়াতো কখন এই দেশটাকে ঘুরে দেখব। ছোট খাটো অনেক জায়গায় যাওয়া হলেও লম্বা রোড ট্রিপ হয় নাই কখনো। লম্বা বন্ধ সহজে অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়াও হয়ে ওঠে না। এখানে সবচেয়ে লম্বা ছুটি বড়দিনের ছুটি সাথে নুতন বছরের শুরু। এই সময়টাই আরো ২/৩ দিন অতিরিক্ত ছুটি সাথে যোগ করে নিলে অনেকটা লম্বা ছুটি হয়ে যায়। অনেকদিন দূরে কোথাও যাওয়া হচ্ছে না; দূরের ডে-ট্রিপ সপ্তাহান্তের বন্ধে প্রায় নিয়মিত যাওয়া হলেও কয়েকদিনের লম্বা রোড ট্রিপ অনেকদিন হয় না।তাই গত বড়দিনের বন্ধে স্ত্রী এবং বন্ধুর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিলাম মেলবোর্ন থেকে গাড়ী চালিয়ে পার্থ যাওয়া যাক। কয়েকদিনব্যাপি দীর্ঘ ট্যুরের জন্য বেশ বিস্তারিত প্ল্যান করতে হয় যেমন – দর্শনীয় স্থান, থাকার ব্যবস্থা, যাতায়াত, খাওয়া ইত্যাদি। প্ল্যানের খসড়া দাঁড় করানোর পর দেখা গেল প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হবে।  সিদ্ধান্ত নিয়ে মোট চার দিনের একটা প্ল্যান দাঁড় করালাম এই পথ টুকু পাড়ি দিতে। দীর্ঘ এ রুটে শ-দুশো কিলোমিটার পর্যন্ত লোকালয় পাওয়া মুশকিল। অনেক গুলো আউটব্যাক (outback) আছে তাই সাবধানতার খাতিরে কিনে নিতে হল টায়ার পাংচার, টায়ার পরিবর্তন, ব্যাটারি ফিক্স ইত্যাদি বেসিক কিছু সমস্যা সমাধানের যন্ত্রপাতি যাতে হাইওয়ের মাঝে বড় বিপদে না পড়তে হয়। খাবার দাবার, কাপড়  চোপড়, ক্যামেরা সব ভেবেচিন্তে গাড়িতে তুলে নেয়া হল। মুশকিল হল আমার আদরের বাচ্চা টবিকে নিয়ে। ও তিন বছরের labrador retriever। প্রথমে মনে করেছিলাম সাথে নিয়ে যাবো পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলো কিছু কারনে একদম শেষ মুহুতে এসে । ওকে রেখে আসতে হলো ক্যায়ারারের কাছে।

সময়ের বিবেচনায় আমরা চিন্তা করলাম মোট ৪ দিনে আমরা ৩,৫০০ কি মি পথ পাড়ি দিব। এই ৪ দিনে আমরা প্রতিদিন সমপরিমান দূরত্বে গাড়ী চালাবো। এতে শরীরের উপর চাপটা কমে আসবে, আর পথে আমরা পর্যাপ্ত সময় পাবো নুতন নুতন শহর দেখার। থাকার জায়গাটা ঠিক হলো এই ভাবে যাতে রিফুয়েলিং আর খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যায়। আমাদের রোড প্ল্যান টা হলো –

  • ১ম দিন – মেলবোর্ন টু পোর্ট পেয়রি – ৯৫৫ কি মি (১০ ঘন্টা )
  • ২য় দিন -পোর্ট পেয়রি টু নুলাবর – ৮৫৮ কি মি (৯ ঘন্টা )
  • ৩য় দিন – নুলাবর টু বোল্ডার – ১,১৮৫ কি মি (১১ ঘন্টা )
  • ৪র্থ দিন – বোল্ডার টু পার্থ – ৬00 কি মি (৭ ঘন্টা )

মেলবোর্ন থেকে বেরিয়ে পড়লাম সকাল ৭টায়। পথে লছিএলের (Lochiel) পিঙ্ক সল্ট লেক দেখে আমরা পোঁছে গেলাম আমাদের প্রথম যাত্রা বিরতির শহর পোর্ট পেয়রি (Port Pirie)। পথে পথে সাইল আর্ট গুলো যতই দেখছিলাম ততই মুগ্ধ হছিলাম ।

পোর্ট পেয়রি থেকে খুব ভোরে রওনা দিলাম নুলারবার (Nullarbor) এর উদ্দেশ্যে। আজকের রাস্তা একটু কম সময়ের হওয়ায় আমরা চিন্তা করলাম পথের দেখার জায়গা গুলো হয়ে যাবো। আর আউটব্যাক গুলোর আগে আগে রিফুয়েল করে নিব।

প্রথমেই পেলাম পোর্ট অগাস্টা (Port Augusta)। জায়গাটা অস্ট্রেলিয়ার ক্রসরোড (the crossroads of Australia) নামেও পরিচিত। ডারউইন, অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ব্রিসবেনে যাবার রাস্তা পোর্ট অগাস্টার এই অংশে ক্রস করেছে। এগুলো পেরিয়ে আরো ১২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথম আউটব্যাকের দেখা পেলাম।

Kimba তে দেখা হলো অস্ট্রেলিয়ান সাইলো আর্ট যার সৌন্দর্য অতুলনীয়। রিফুয়েলিং সাথে দুপুরের খাওয়াটা সারা হলো এখানে। এরপর Minnipa শহরের খুব কাছেই হাইওয়ে থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে দেখতে গেলাম পিলডাপ্পা রক (Pildappa Rock)। এর ফর্মেশন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ওয়েভ রকের মতোই।

পাড় হয়ে গেলাম সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ছোট্ট পোর্ট শহর সেডুনা (Ceduna)। এই বন্দর দিয়ে শস্য, লবণ, খনিজ বালি এবং জিপসাম রপ্তানি করা হয়। অবশেষে বিকেল বিকেল পৌছে গেলাম স্বপ্নের নুলারবার প্লেইন (Nullarbor Plain) এর নুলারবার রোড হাউস। আমাদের রাএিযাপন আজ এখানেই।

নুলারবার রোড হাউসটা খুবই সুন্দর। মরুভূমির বুকে এই ধরনের সার্ভিস, খাওয়া অসাধারন। তবে আমার কাছে একটু বেশিই দাম মনে হলো। আমাদের পরদিন গন্তব্য ছিল সোনার খনির শহর বোল্ডার (Boulder)। পরদিন ভোরে রওনা হবো বলে রাতে বেশ তারাতারি শুয়ে পরলাম। নুলারবার রোড হাউসের পর অনেক গুলো আউটব্যাক আছে। এই জন্যে আগে থেকে আমরা রিফুয়েলিং স্টেশন গুলোর তালিকা করে নিয়ে ছিলাম। নুলারবার প্লেইন অতিক্রম করার সময় আমরা সব গুলো রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে ছিলাম। তাই সবসময় আমাদের গাড়ীর ট্যংক ছিল ভরা। এখানে একদিকে দ্য গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইট কোস্ট আর আর অন্যদিকে গ্রেট ভিক্টোরিয়া ডেজার্ট। অসাধারন সব দৃশ্য দেখতে দেখতে পথ চলা। এখানে অস্টেলিয়ার সবচেয়ে লম্বা সোজা রাস্তা, যা প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার। বোল্ডারে রাত কাটিয়ে পরদিন পৌছে গেলাম পার্থে।

পার্থে আমাদের অবস্থান ছিল অল্প কিছু দিনের। অল্প সময়ের মধ্যে যাতে আমাদের ব্যাকেট লিষ্টের জায়গা গুলো ঘুরে দেখতে পারি সেই দিকে ছিল সজাগ দৃষ্টি। এর মধ্যে একটা ছিল ভারত মহাসাগরের নোনা জলে সাঁতার কাটা। এর জন্যে বেছে নিয়ে ছিলাম পার্থ শহর থেকে ২২৫ কিমি দুরের বাসেলটন বিচ (Busselton Beach)। নিরাপত্তার জন্য জাল দিয়ে ঘেরা বিচ, বিচ ওয়াটার গেম বাচ্চাদের সাথে সাথে বড়দের ও আনন্দ দিবে। জেটির উপর দিয়ে রেল ভ্রমনও করা যায়।

পার্থ শহরটা ঘুরে দেখার জন্যে বেছে নিলাম সন্ধ্যার সময়টা । মিল পোইন্টে (Mill point) সোয়ান নদীর তীরে বসে পার্থ শহরের স্কাইলাইন দেখার অনুভিতই আলাদা। মরি স্ট্রিটের খ্রীষ্টমাস লাইটিং ছিল রাতের বারতি পাওনা।

পার্থে এসে একটা জায়গা একদম মিস করার নয়, সেটা হলো নামবুং (Nambung) ন্যাশনাল পার্কের পিনাকল ডেজার্ট। এটি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে অনন্য এবং আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক ল্যান্ডস্কেপ। মিলিয়ন বছর ধরে, হলুদ রঙের বালুর মরুভুমি থেকে হাজার হাজার লম্বা চুনাপাথরের ফলা বর্শার মতো অংশ উপরে উঠে এসেছে। অসাধারন সুন্দর বালির রঙ, যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এটা যেন অন্য কিছু।

পার্থ শহরে ঘুরাঘুরির জন্য আপনি একটা দিন ফ্রেম্যান্টল (Fremantle) এর জন্য রেখে দিতে পারেন। ১৮০০ শতকের তৈরী এই শহরে রয়েছে অনন্য সব স্হাপনা যা আপনাকে নিয়ে যাবে সুদূর অতীতে। আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো ১৮৫২ সালের তৈরী জেলখানা। বিশ্বের বৃহত্তম কারাগারগুলির মধ্যে একটি যা এখনো টিকে আছে। এখানে অনেক গুলো প্রিসন ট্যুরের ব্যবস্হা আছে যেমন Torchlight tour, Tunnels tour অন্যতম। যেতে হলে আগে থেকে বুকিং করতে হবে। এছাড়া রয়েছে রাউন্ড হাউস, আর্ট গ্যালারি, সুন্দর সব ক্যাফে। বিকেল বেলাটা কাটিয়ে দিতে পারেন রাউন্ড হাউসে বসে এক কফি নিয়ে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে ।

পড়ুন সৈকত মুহুরীর আরো লেখা

 

ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিনের সকল কর্মকান্ড নট ফর প্রফিট, স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সকল কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অত্যন্ত ভরাক্রান্ত মনে জানাতে হচ্ছে যে আমাদের সম্মানিত লেখকদের জন্য কোনো তহবিল এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। অদূর ভবিষ্যতে তহবিল গঠন করতে পারা গেল এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

 

ঘুরুঞ্চির ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে আমাদের সপ্তাহে ৮-১২ ঘন্টা কাজ করতে হয়। বর্তমানে আমাদের কাজ শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবক এবং স্ব-অর্থায়নের উপর নির্ভর করে। আপনারা ঘুরুঞ্চিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনুদান দিয়ে, স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।

ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগের ছবি থেকে আপনার পছন্দসই ছবি পেপার প্রিন্ট, ফাইন আর্ট প্রিন্ট, ওয়াল আর্ট এবং ডেস্ক আর্ট হিসাবে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা ছবি কেনাকাটা করলে আমরা অল্প পরিমাণ কমিশন পাব, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যাবস্থার হবে, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যবহার হবে।

আমরা আপনার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।