রক ফিশিং যথেষ্ট বিপজ্জনক এবং এর ভয়াবহতা জেনেও অনেকেই রক ফিশিং করতে চান। ফেব্রুয়ারী মাসে বাংলাদেশী কমুনিউনিটির মাহাদী খান এবং মোজাফ্ফর আহমেদ রক ফিশিং করার সময় স্রোতের আঘাতে ছিটকে যাওয়ার পর মৃত্যবরণ করেন। তাদের এই মৃত্য ঘুরুঞ্চি টিমকে হতবাক এবং যথেষ্ট বিচলিত করেছে। আমাদের বাংলাদেশী কমুনিউনিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ কি করে নিরাপদ ভ্রমণ করতে পারবেন সে বিষয়টি নিয়ে আমরা ভেবেছি। আসলে আমাদের সবাইকেই সাবধানতার কথা সবসময় মাথায় রেখে পথ চলতে হবে।
কথা বলেছিলাম বাংলাদেশী বেশ কয়েক জনের সঙ্গে। আলোচনা মুখরোচক হয়ে উঠলো যখন কেউ কেউ জানালেন “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সমকালীন সময়ে দৌড়ে চলন্ত বাস থেকে বা পা দিয়ে দৌড়ে নামার অভিজ্ঞতা”, “দৌড়ে চলন্ত ট্রেনে উঠে যাওয়া”, “ট্রাকে বা বাসের ছাদে চড়ে ভ্রমণ” এবং রক ফিশিং প্রসঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলের একজন বললেন “আমরা তো পানির দেশের মানুষ- সব পানি তো একই”। যাই হোক, আমাদের অনেকের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ছোটবেলা থেকে আমাদের অনেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে চর্চা করেননি কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে যে আমাদের বতর্মান প্রেক্ষাপট অস্ট্রেলিয়া, আমাদের সেটাই করা উচিত যেটা এই দেশের নিয়ম বা চর্চা করা করা হয়।
হার্ড হ্যাট (হেলমেট):
বাইসাইকেল, রক ক্লাইম্বিং, ক্যানোইং অথবা ফরেস্ট ওয়াকে আপনাকে নানাভাবে সুরক্ষা দিতে পারে। হার্ড হ্যটের ডিজাইন এমন যে আপনাকে পরে গেলে, কোনো কিছুর সাথে বাড়ি খেলে, উপর থেকে কোনো পাথর কিংবা গাছের ডাল ভেঙে পড়লে আপনার মাথা,ঘাড়, চোঁখকে রক্ষা করতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম:
আপনি যখন কোথাও বেড়াতে বার হোন আপনার সাথে ছোট প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম (ফার্স্ট এইড বক্স) থাকা জরুরী। বিশেষ করে আপনি যখন একটা লম্বা সময়ের জন্য বাচ্চা বা পরিবারের অন্যান্যদের নিয়ে কোথাও বেড়াতে বের হোন বা হাইকিং করতে যান কোনো ন্যাশনাল পার্কে বা কোন কোস্টাল এলাকাতে। একটা ছোট ফার্স্ট এইড বক্স আপনাকে অনেক সময় অনেক ছোটখাটো কাটাছেঁড়া, পোকার কামড় ইত্যাদি থেকে বড় ধরণের সাচ্ছন্দ দিতে পারে।

এন্টি বাইট স্নেক প্রটেকশন:
আপনাকে বুশ ওয়াকের সময় সাপের কামড়ের থেকে সুরক্ষা দিতে পারে করতে পারে। এক ধরণের বিশেষ কাপড় দিয়ে এটি তৈরী করা হয় হয়। পায়ে পেচিয়ে আপনি বুশ ওয়াকে গেলে শুধু সাপের কামড়ে নয়, আপনাকে সুরক্ষা করবে পায়ে কোনো আঁচড় না লাগতে আর আপনি যদি স্নো তে যান সেখানেও আপনাকে আপনার প্যান্ট বা পা ভিজে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।

লাইফ জ্যাকেট:
আপনি সাঁতার জানেন কিংবা না জানেন যাই হোক না কেন আপনি যখন পানির কাছাকাছি যান যেমন কোন একটা নদী বা লেক, সমুদ্রের পাড় একটা লাইফ জ্যাকেট আপনার জীবনেই অনেক নিরাপত্তা দিতে পারে – বিশেষ করে আপনি যখনও ক্যানোইং করবেন, রক ফিশিং করবেন নৌকাতে চড়বেন। আপনার কীর্তিকলাপ দেখে আপনাকে নিয়ে কেউ হাসাহাসি করতেই পারে কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার/পরিবারের জীবনের নিশ্চয়তার ব্যবস্থা আপনাকেই নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ন্যাশনাল পার্ক, লেক, বিচ এলাকায় পর্যটকদের মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হ’ল পানিতে ডুবে যাওয়া। একটি লাইফ জ্যাকেট এই মৃত্যু ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনে। পানির নীচে নানা রকম বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে, বিশেষ করে পাথুরে উপকূল এলাকায়। অনেক সময় দক্ষ সাঁতারুদের ডাইভিং টীম উদ্ধার কাজে পরাস্ত হয়ে যায়। পানিতে ভাসন্ত থাকতে সর্বদা একটি লাইফ জ্যাকেট পরুন। লাইফ জ্যাকেট আপনার জীবন বাঁচাতে পারে।

কম্পাস:
কম্পাস হলো ছোট একটা যন্ত্র যা দিয়ে এটা দিক, কৌণিক অবস্থান এবং ন্যাভিগেশনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি কোনো বুশওয়াকে গেলে আপনি যদি নির্ধারিত পথ ধরে চলতে থাকেন তবে আপনার ম্যাপ, জিপিএস ইত্যাদির প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে, আপনি যদি লম্বা কোনো ওয়াকে যান এবং নির্ধারিত পথের বাইরে বিশেষ করে বনের মাঝে ১ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেন তবে আপনার নিরাপত্তার স্বার্থে আপনার সাথে একটা কম্পাস থাকা উচিত। কম্পাস আপনার ধর্মীয় কাজেও ব্যবহার হতে পারে।

জিপিএস:
বর্তমান সময়ে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) সিস্টেম ব্যবহার করেন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গাড়িতে, মোবাইলে, ঘড়িতে এবং নানা সিকিউরিটি ডিভাইসে আজকাল অন্তর্নির্মিত (বিল্ট ইন) জিপিএস থাকে। অনেক আগের দিনে নাভিগেশনের কাজে মানচিত্র, কম্পাস, স্কেল, কাটা কম্পাস, চাঁদা ইত্যাদির ব্যবহার ছিল। জিপিএস এর সাহায্যে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের মাধ্যমে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা যায়, নেভিগেশনাল জিপিএস এর সাহায্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবার ডিরেকশন পাওয়া যায়। আপনি বুশ ওয়াকিং এ গেলে অপার সাথে একটা হ্যান্ডহেল্ড জিপিএস রাখতে পারেন ।

ওয়াকি-টকি সেট এবং ফোন:
মোবাইল ফোন সবার সাথেই থাকে কিন্তু আপনার প্রয়োজনের সময় অথবা আপনি যে জায়গায় অবস্থান করছেন সেখানে নেটওয়ার্ক নাও থাকতে পারে। স্বল্প মূল্যের এক সেট ওয়াকি-টকি আপনাকে আশে পাশের ৫/১০ কিলোমিটার দূরত্বের কোনো রেডিও অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারে। গভীর বনে, নির্জন পাহাড়ি রাস্তায় হতে পারে আপনার একান্ত সঙ্গী।

হুইসেল/বাঁশি:
আপনি জেনে অবাক হবেন যে ছোট্ট একটা হুইসেল কত কাজে আসতে পারে। আপনি একটি হুইসেল আপনার পকেটে বা হাইকিং ব্যাগে রাখতে পারেন। সাধারণ অবস্থায় হুইসেলের শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায়। বিপদের সময় আপনি প্রথমে তিনবার ছোট লেংথে বাজান এরপর তিনবার লম্বা লেংথে বাজান এবং এর পরপরই আবার তিনবার ছোট লেংথে বাজাবেন যেমন: — ౼౼౼ —। এটি পদ্ধতিতে SOS – মোর্স কোডে দিয়ে আপনি বিপদ সংকেত পাঠাতে পারবেন। ছোট একটি হুইসেল আপনার জীবন বাঁচাতে সক্ষম।

জুতা:
বুশওয়াকিং এ আপনাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলো আপনার পায়ের যত্ন। অনেক কোনো ব্রান্ডের হবার প্রয়োজন নেই তবে ভাল-ফিটিং হতে হবে যেটা আপনার পা কে কোনো ব্যাথা দেয় না, সোলটা যেন মোটা হয় এবং গ্রিপ গুলো যেন ভালো হয়। জুতোজোড়া হাইকাট হলে আপনার গোড়ালিকে সাপোর্ট দিবে, পা মচকে ব্যাথা পাবার সম্ভবনা অনেক কমে যায়। উঁচুনিচু পথে ভ্রমণের আগে আপনার পায়ের নখগুলি কেটে ফেলুন তাতে ব্যথা এড়াতে পারবেন।

রেইন জ্যাকেট:
জুতসই রেইন জ্যাকেট খুঁজে পাওয়া একটু জটিল। রেইন জ্যাকেট কেনার আগে ভাবুন কি কাজে আপনি রেইন জ্যাকেট ব্যবহার করবেন যেমন: কোথায় যাবেন, কতক্ষন বাইরে বাইরে থাকবেন, লেংথ কতটুকু হবে, ভাঁজ করলে কতটুকু ছোট হবে ইত্যাদি। রেইন জ্যাকেট অনেক দামি হতে পারে। আপনার ভাবনা সঠিক দামের সঠিক প্রোডাক্টটি সিলেক্ট করতে আপনাকে সহায়তা করবে। আমার মতে রেইন জ্যাকেট উজ্জ্বল রঙের হওয়া উচিত। উজ্জ্বল রঙে অনেকে দূর থেকে বোঝা যায় আর ছবিতেও খুব ভালো লাগে।

আন্টিবাইট স্প্রে:
বুশওয়াকিং কিংবা ক্যাম্পিং ট্রিপে সবচে প্রয়োজনীয় বস্তূটি হলো আন্টিবাইট স্প্রে। আন্টিবাইট স্প্রে সাধারণত এরোসল নামে পরিচিত। বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের এরোসল পাওয়া যায়। সূক্ষ্ম গ্যাসের কণাগুলো আপনার গায়ে বা কাপড়ে লেগে থাকলে মশা মাছি খুব একটা বিরক্ত করবে না।
