দারুচিনি দ্বীপের দেশে

Avatar

Byমুহাম্মদ মনসুরুল আজম, বাংলাদেশ

Oct 27, 2023 ##ভ্রমণ #রেস্তোঁরা, #অথনীতি, #অপরূপ, #আকর্ষণীয়, #আকাশ, #আকৃষ্ট, #আরব, #উপভোগ্য, #কক্সবাজার, #কনসার্ট, #কর্মসংস্থান, #কুটির শিল্প, #ক্যাফেটেরিয়া, #ক্যামেরা, #গাঙচিল, #ঘাট, #ঘুরুঞ্চি, #চট্টগ্রাম, #ছুটি, #জলদস্যু, #জাহাজ, #ট্রাভেল, #ট্রেন, #দ্বীপ, #নদী, #নাইটক্লাব, #নাফ, #নৌকা, #পরিকল্পনা, #পরিবেশ, #পর্তুগিজ, #পর্যটক, #পর্যটন, #পাহাড়, #প্রকৃতি, #ফরেস্ট, #ফাস্টফুড, #বন, #বনায়ন, #বাক খালি, #বাংলাদেশ, #বালিভাস্কর্য, #বাস, #বিমান, #বিয়ার, #বৃক্ষরোপন, #বেড়ানো, #বোর্ডিং, #ব্যবস্থাপনা, #মিয়ানমার, #মুহাম্মদ মনসুরুল আজম, #রিসোর্ট, #লাইসেন্স, #সমুদ্র, #সমুদ্র সৈকত, #সাংস্কৃতি, #সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, #সেন্টমার্টিন, #সৈকত, #হোটেল

সাতটি পরিবারে বসতি দিয়ে শুরু হয়েছিল সেন্টমার্টিন দ্বীপ, যেখানে এখন প্রায় সাত হাজার পরিবারের বসবাস। প্রায় আড়াইশ বছর আগে আরব ব্যাবসায়ীগন প্রথম এই দ্বীপের সন্ধান পান। তারা এর নাম দেন জিঞ্জিরা। পরে পর্তুগিজ জলদস্যুরা এর নাম রাখেন সিনামন আইল্যান্ড বা দারুচিনি দ্বীপ। এরপর ব্রিটিশ শাসনামলে চট্টগ্রামের ডিসি মার্টিনের নামে এর নামকরণ হয় ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ’।

কিভাবে যাবেন?
চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি শিপে করে সেন্টমার্টিনে যাওয়া যায়। এছাড়া কক্সবাজার এবং টেকনাফ থেকে শিপে করে যেতে পারবেন সেন্টমার্টিন। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চলে আসুন চট্টগ্রাম অথবা কক্সবাজার।

এবারের ভ্রমণ সঙ্গী তাহের ভাই। পরোপকারী, হাসি খুশি স্বভাবের একটা মানুষ। অনেকদিন ধরেই উনি আমাকে বলছিলেন সেন্টমার্টিন যাবার ব্যাপারে। সময় আর সুযোগ হচ্ছিল না। যাইহোক অবশেষে আমরা দিন খন ঠিক করলাম। উনি ঢাকা থেকে চলে এলেন রাতের বাসে করে চট্টগ্রাম। আমি চট্টগ্রাম শহরেই থাকি। আগে থেকেই কক্সবাজারের টিকিট করে রেখেছিলাম। সকাল ৯ টায় রওনা দিয়ে দিলাম। দুপুরে কক্সবাজার এসে পৌছালাম। এখানে দুইদিন ছিলাম আমরা। কক্সবাজারের গল্প অন্যদিন শোনাব।

কক্সবাজার থেকে শিপে সেন্টমার্টিন যাবার টিকেট নিলাম অনলাইনে। পরের দিন সকাল ৭ টায় আমাদের সমুদ্র যাত্রা। যাইহোক ভোর পাচ টায় ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা সেরে হালকা ব্রেকফাস্ট করে রওনা দিলাম। ঘাটে এসে আমাদের আক্কেল গুড়ুম!!! ঘাটের লোকজন বলাবলি করছে শিপ নাকি ৫ টায় ছেড়ে চলে গিয়েছে। জোয়ার ভাটা জনিত সমস্যার কারনে নাকি শিপ আগে ছেড়ে দিয়েছে। রাতেই নাকি সব যাত্রী কে কনফার্ম করা হয়েছিল। অনলাইনে টিকিট করায় আমাদের আর জানানো হয়নি। আমাদের মত আরো বেশ কিছু যাত্রীরও একই অবস্থা। পরে সবাই যোগাযোগ করে অনেক দেন-দরবারের পর আমাদের কে পরেরদিন যাবার ব্যবস্থা করে দিল সেইম টিকেটে। কি আর করা আমাদের আরেকটা দিন বেশিই থাকতে হল কক্সবাজারে।

গতকালের বিড়ম্বনার পর আজকে আর কোন রিস্ক নেইনি। ভোর চারটায় ওঠে পরেছি,আধাঘন্টার মধ্যেই ঘাটে হাজির। আমাদের শিপ ৬ টায় ছাড়লো। জাহাজ ছাড়ার পর সকালের রোদে বাক খালি নদী ধরে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাত্রা ছিল বেশ উপভোগ্য। সমুদ্রে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য আর নীল আকাশ দেখতে দেখতে দুপুরের দিকে আমরা পৌঁছে গেলাম প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের ঘাটে।

জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এই দ্বীপের সন্ধান পান পরে সেখানেই বসতি গড়ে তুলেন। এক ইউনিয়ন বিশিষ্ট নয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই দ্বীপ। এখানকার মানুষের জীবিকা বলতে মাছ ধরা, নারিকেল, তরমুজ আর ধান চাষ।

ঘাট থেকে নেমে একটু হাটলেই বাজার, এরপর ছোট বড় অনেক রিসোর্ট। বীচের একদম পাশেই আমরা ১ হাজার টাকায় মোটামুটি গোছের একটা রুম নিলাম। কাপর পাল্টেই চলে এলাম বীচে। একদম স্বচ্ছ পানি, অনেক পরিস্কার। কক্সবাজারের পানি অনেক ঘোলাটে কিন্তু এইখানে যেনো ঠিক উল্টো। সমুদ্রে নেমেই দাপাদাপি, সাতার কাটা, গোসল করে খুবি ভালো লাগলো। এর মধ্যে খিদা লেগেছে প্রচন্ড। দ্বীপে এখন অনেকগুলো রেস্টুরেন্টে। আমরা ঢুকে পড়লাম একটায়। তাজা রুপচাঁদা ফ্রাই আর লাক্কা মাছ দিয়ে শেষ করলাম লাঞ্চ ।

বিকেলে আবার দারুচিনি দ্বীপের দেশ ঘুরতে বের হলাম! প্রবাল পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটার সে এক অন্যরকম অনুভূতি। হাটতে হাটতে চলে এলাম প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর সমুদ্র বিলাসের সামনে। বেলা গড়িয়ে গোধূলি, সূর্যাস্তের ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। সবাই ছবি তুলতেই ব্যাস্ত। আমিও ক্যামেরার শাটারে একের পর এক ক্লিক করেই যাচ্ছি। রাতে ডিনার সারলাম সাগর পাড়ে। কাকড়া আর লবস্টারের বার বি কিউ দিয়ে।

পরদিন সকাল ৯ টায় চলে গেলাম ছেড়া দ্বীপ। অজস্র প্রবালের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এই দ্বীপ। দ্বীপের প্রায় অর্ধেকই জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিতে ডুবে যায়। ছেঁড়া দ্বীপে থাকা–খাওয়ার কোনো জায়গা নেই। সবাইকে বিকেল চারটার মধ্যে এই দ্বীপ ছেড়ে যেতে হয়। কেওড়া বন আর প্রবাল পাথরের এই দ্বীপ ছেড়ে মন কিছুতেই যেতে চাইছেনা। বিকাল ৩ টায় আমাদের টেকনাফ ফিরে যাওয়ার শিপ ধরতে হবে। লাঞ্চ শেষ করেই শিপে উঠে গেলাম। সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ প্রায় ৪২ কিলোমিটার। ২৫ কিলোমিটার নাফ নদী আর বাকি ১৭ কিলোমিটার খোলা সাগর। নদীর কোল ঘেঁষে আছে গাছের সারি, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য রয়েছে ছোট ছোট পাহাড়। এত অপরূপ বাংলা! সবাই নাফ নদী ও ওপারে মিয়ানমার সীমান্তের সৌন্দর্য দেখছে। সবচেয়ে মজার ছিল গাঙচিলদের বিচরণ। জাহাজের পিছু পিছু ওরাও ছুটে চলছে খাবারের লোভে। কেউ কেউ চিপস ছুরে দিচ্ছে তাদের খাবারের জন্য। অদ্ভুত সুন্দর এক সৌন্দর্য।

সাগরের হাওয়ায় ভেসে যেতে যেতে আমরা টেকনাফ চলে এলাম। সন্ধ্যা নেমে এসেছে, সেন্টমার্টিন টু ঢাকার বাসে উঠে পড়লাম। রাত প্রায় ১ টায় আমি চট্টগ্রাম নেমে গেলাম আর তাহের ভাই চলে গেল ঢাকার উদ্দেশ্যে।

পড়ুন মুহাম্মদ মনসুরুল আজমের আরো লেখা

 

ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিনের সকল কর্মকান্ড নট ফর প্রফিট, স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সকল কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অত্যন্ত ভরাক্রান্ত মনে জানাতে হচ্ছে যে আমাদের সম্মানিত লেখকদের জন্য কোনো তহবিল এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। অদূর ভবিষ্যতে তহবিল গঠন করতে পারা গেল এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

 

ঘুরুঞ্চির ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে আমাদের সপ্তাহে ৮-১২ ঘন্টা কাজ করতে হয়। বর্তমানে আমাদের কাজ শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবক এবং স্ব-অর্থায়নের উপর নির্ভর করে। আপনারা ঘুরুঞ্চিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনুদান দিয়ে, স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।

ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগের ছবি থেকে আপনার পছন্দসই ছবি পেপার প্রিন্ট, ফাইন আর্ট প্রিন্ট, ওয়াল আর্ট এবং ডেস্ক আর্ট হিসাবে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা ছবি কেনাকাটা করলে আমরা অল্প পরিমাণ কমিশন পাব, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যাবস্থার হবে, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যবহার হবে।

আমরা আপনার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।