জাপান দেশটাকে আমি বেশ পছন্দ করি। কর্মসূত্রে এবং ঘুরাঘুরির জন্য বেশ কয়েকবার এই দেশটাতে যাওয়া হয়েছে।
একবার গিয়ে এক শোফারকে পেলাম। যে চমৎকার গাড়ি চালায়,খুব বিনয়ী মিশুক আর দারুন ইংরেজি বলে। গাড়িতে চড়ার সময় দরজা মেলে ধরে খাঁটি শোফার এর মত দরজার পাশে দাঁড়িয়ে চমৎকার করে জাপানি কায়দায় বাও করে। দুদিনেই আমরা তাকে পছন্দ করে ফেললাম।
তার উচ্চারণ অন্য জাপানীদের মত নয় দেখে আমি তার ইংরেজির প্রশংসা করেছি বেশ কয়েকবার। জানতে চেয়েছি এত ভালো ইংরেজি সে কোথায় শিখলো। সে থ্যাংক ইউ বলে মুখ টিপে হেসেছে শুধু।


একদিন চেপে ধরলাম। জিজ্ঞাসার মুখে সে আস্তে করে বিব্রত স্বরে বললো- সে আমেরিকার বার্কলে ইউনিভারসিটির একজন গ্রাজুয়েট। তাই তার ইংরেজিতে আমেরিকান একসেন্ট। তার পারিবারিক ব্যবসার মধ্যে একটি বড় রেন্ট এ কার কোম্পানীও আছে। ড্রাইভার কম পড়লে সে নিজে প্রায়ই গাড়ি নিয়ে বের হয়। এবারও তাই করেছে।
আমি তাকে সহাস্যে বললাম একটু সেকেন্ড সিটে বসো। আমি বরং তোমাকে নিয়ে গাড়ি চালাই। বার্কলে ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট আমার শোফার বিষয়টা আমার হজম হচ্ছে না।
জাপানিরা অনেক ভদ্র আর বিনয়ী এ কথা সর্বজন বিদিত। কিন্তু তাদের ভদ্রতার পর্যায় কোন পর্যন্ত সেটা জানতে পারাটা আমার জন্য একটা বড় শিক্ষা ছিল।
জাপানে গিয়ে আমি বারবার শিখেছি -যে নদীর গভীরতা যত বেশি, তার বয়ে চলার শব্দ তত কম।
যাই হোক, সবশেষ ছবিতে স্যুট পরে যে দুজন জাপানি শোফার দাঁড়িয়ে আছে তাদের একজনের নাম সুজুকি, আরেকজনের নাম কাওয়াসাকি।
Post Views: 39