দেবতা অ্যাপোলোর নাম জড়িয়ে আছে সঙ্গীত-নৃত্য, তীর-ধনুক চালনা, ভবিষ্যদ্বাণী, শিল্পকলা-কবিতা, নিরাময়-রোগ, সূর্য-আলো, আরও অনেক কিছুর সাথে। গ্রিসের ডেলফি (Delphi) নামক জায়গার অভয়ারণ্যে অ্যাপোলো মন্দিরটি দেবতা অ্যাপোলোর জন্য নিবেদিত মন্দিরগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ।

দেবতা অ্যাপোলোর জন্য প্রাচীন গ্রিসে তৈরী করা হয়েছিল পাঁচটি মন্দির। এই মন্দিরগুলোর মধ্যে প্রথম নির্মিত মন্দির হলো ডেলফির মন্দির। মন্দিরটি খ্রিস্টপূর্ব ৭ শতকের দিকে নির্মিত হয়েছিল। কুঁড়েঘরের মত করে তৈরী করা মন্দিরটি ছিল লরেল পাতা দিয়ে তৈরী। টেম্পের (Tempi) উপত্যকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল লরেল (laurel) পাতা। লরেল পবিত্র গাছ এবং অ্যাপোলোর উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতীক

গ্রীক পুরাণের একটি সংস্করণ অনুসারে, দেবতা অ্যাপোলো ডলফিনের ছদ্মবেশে ডেলফিতে এসেছিলেন এবং ক্রিটের পুরোহিতদের তার পিঠে করে নিয়ে গিয়েছিলেন সাথে। আরেকটি সংস্করণে বলা আছে – অ্যাপোলো ডেলফির সমস্ত পথ হেঁটেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি উত্তর দিকর টেম্পে শহরে থেমেছিলেন। ডেলফি থেকে টেম্পে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ। হয়তো দেবতা অ্যাপোলো এক মুহূর্তেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। টেম্পে শহরে প্রচুর পরিমাণে লরেল গাছ জন্মে। অ্যাপোলো এখানে এসেছিলেন মূলত লরেল সংগ্রহের জন্য, যা তার কাছে অত্যন্ত আধ্যাত্মিক গুরুত্বের গাছ ছিল। হয়তো এই কিংবদন্তি মনে রেখেই, পাইথিয়ান গেমসের (গ্রিসের প্রাচীন খেলা) চ্যাম্পিয়নদের লরেল পাতা সহযোগে তৈরী পুষ্পস্তবক দেওয়া হতো।

দ্বিতীয়বার মন্দিরটি তৈরি হয় মোম এবং পালক দিয়ে, তৃতীয়বার ব্রোঞ্জ আর চতুর্থবার পাথর দিয়ে। কিন্তু ৫৪৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আগুনে সেই মন্দির ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে ৩৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মন্দির আবার ধ্বংস হয় ভূমিকম্পের কারনে এবং বর্তমান মন্দিরটি ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পুনর্নির্মিত হয়েছিল, যেটার অনেক অংশই এখনো দৃশ্যমান আর বর্তমান গ্রিসের অন্যতম পর্যটক আকর্ষণ।

আরো পড়ুন ওয়াদি রাম

প্রাচীন শাস্ত্র মতে, এই মন্দিরটি অ্যাপোলোর মহাযাজকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত মহাযাজক পাইথিয়ার আসন হিসাবে কাজ করেতো। যদিও মন্দিরের প্রধান ব্যাবহার ছিল ভবিষ্যদ্বাণী এবং মহাযাজকের পরামর্শ গ্রহণ। তারপরও, যেহেতু অ্যাপোলোকে নিরাময় ক্ষমতার দেবতা হিসাবে উপাসনা করা হতো, কাজেই, যেকোনো বিশাল স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সময় এই ডেলফির অ্যাপোলো মন্দিরে মানুষ অ্যাপোলোর কাছে সাহায্য চাইতে আসতো। এর অন্যতম উদাহরণ হলো প্লেগ। যখন প্রাচীন গ্রিসে প্লেগ আঘাত করে পুরো জনগোষ্ঠীকে, তখন প্লেগের উপশমে বা প্লেগ থেকে মুক্তির জন্য মরিয়া মানুষের আশ্রয়স্থল ছিল এই অ্যাপোলোর মন্দির। তবে অ্যাপোলো মন্দিরে উপাসনা ফ্রি ছিল না। মন্দিরে নিরাময়ের জন্য আসা লোকজনকে চিকিৎসার জন্য ট্যাক্স দিতে হতো। অ্যাপোলো মন্দিরে যাওয়ার পথের ধারে অবস্থিত ট্যাক্স সংগ্রহের ট্রেজারি এখনও অনেকটাই অক্ষত অবস্থায় আছে।

বর্তমান গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে ডেলফি মাত্র ১৬০ কিলোমিটার দূরে। ট্রেন, ট্যাক্সি, বাস বা গাড়ি দিয়ে এথেন্স থেকে খুব সহজেই ডেলফি যাওয়া যায়।

পড়ুন ফারহানা হাসীনের আরো লেখা

 

ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিনের সকল কর্মকান্ড নট ফর প্রফিট, স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সকল কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অত্যন্ত ভরাক্রান্ত মনে জানাতে হচ্ছে যে আমাদের সম্মানিত লেখকদের জন্য কোনো তহবিল এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। অদূর ভবিষ্যতে তহবিল গঠন করতে পারা গেল এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

 

ঘুরুঞ্চির ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে আমাদের সপ্তাহে ৮-১২ ঘন্টা কাজ করতে হয়। বর্তমানে আমাদের কাজ শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবক এবং স্ব-অর্থায়নের উপর নির্ভর করে। আপনারা ঘুরুঞ্চিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনুদান দিয়ে, স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।

ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগের ছবি থেকে আপনার পছন্দসই ছবি পেপার প্রিন্ট, ফাইন আর্ট প্রিন্ট, ওয়াল আর্ট এবং ডেস্ক আর্ট হিসাবে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা ছবি কেনাকাটা করলে আমরা অল্প পরিমাণ কমিশন পাব, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যাবস্থার হবে, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যবহার হবে।

আমরা আপনার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।