কিভাবে করবেন রোড ট্রিপে যাবার পরিকল্পনা

Avatar

Byসালাহউদ্দিন আহমদ, অস্ট্রেলিয়া

Oct 13, 2023 #অস্ট্রেলিয়া, #অ্যান্ড্রয়েড, #আপেল, #আবহাওয়া, #আর্ক ম্যাপ, #ইউএইচএফ রেডিও, #ইন্সুরেন্স, #উলুরু, #এভেঞ্জা ম্যাপস, #ওফলাইন ম্যাপ, #কফি, #কলা, #কাছিম, #কার রেন্টাল, #কিউজিআইএস, #কুকুর, #কেপ ইয়র্ক, #ক্যামেরা, #ক্যাম্পারভ্যান, #ক্যারাভান, #ক‍্যারাভ‍্যান, #খেজুর, #গন্তব্য, #গাইডলাইন, #গাজর, #গুগল ম্যাপ, #ঘুরুঞ্চি, #ঘোরাঘুরি, #চিকিৎসা, #ছুটি, #জিওরেফারেন্সড পিডিএফ, #জিপিএস, #টয়লেট ম্যাপ, #টিকটিকি, #টোল, #ট্রাভেল, #ডে ট্রিপ, #দুর্ঘটনা, #নেটওয়াক, #ন্যাশনাল পার্ক, #পরিকল্পনা, #পরিবেশ, #পর্যটক, #পাখি, #পোষা প্রাণী, #ফাইন, #ফার্স্ট এইড, #ফোর হুইল ড্রাইভ, #ফ্যাশন, #বিড়ম্বনা, #বিড়াল, #বিরতি, #বেজ ম্যাপ, #ব্যাঙ, #ব্যাটারী, #ভাত, #ভ্রমণ, #ভ্রমণসঙ্গী, #মোটেল, #ম্যাপ, #ম্যাপ সংগ্রহ, #ম্যাপবুক, #রেঞ্জার, #রেস্ট এরিয়া, #রোড ট্রিপ, #শশা, #শাড়ি, #সাপ, #সালাহউদ্দিন আহমদ, #সূর্যাস্তের, #সূর্যোদয়, #স্কুল, #স্বদিচ্ছা, #স্যাটেলাইট, #স্যাটেলাইট ফোন, #হাউস সিটার, #হেলিকাপ্টার, #হোটেল

আমাদের কাছে রোড ট্রিপ নানা নামে পরিচিত, যেমন লং ড্রাইভ, ডে ট্রিপ ইত্যাদি। লং ড্রাইভ হলো গাড়িতে করে কয়েক ঘন্টার জন্য প্রকৃতির মধ্যে নির্মল আনন্দ পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রিয়জনকে সঙ্গী করে দূরে কোথাও যাওয়া। আমার কাছে রোড ট্রিপ হলো অটোমোবাইল ব্যবহার করে সময় নিয়ে একটি দীর্ঘ দূরত্বের পথ ভ্রমণ। এই দীর্ঘ ভ্রমণ কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত হতে পারে। চট-জলদি পরিকল্পনায় ছুটির দিনের ঘোরাঘুরি, ডে ট্রিপ আমাদের মনকে নতুন করে চাঙ্গা করে তোলে। এরকম আয়োজনে অন্য রকম মজা থাকে, দায়ীত্ব কম থাকে। তবে, আমার মনে হয় লম্বা সময় নিয়ে ভ্রমণ না করলে, নিজের গন্ডি থেকে বের হয়ে নতুনত্বের স্বাদ নেয়াটা অসম্ভব।

যারা লম্বা সময় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে চান তাদের বিশেষ পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ লম্বা সময় বেড়ানোর লম্বা প্রস্তুতি। কবে, কখন, কোথায়, কিভাবে, কারা যাচ্ছেন, কত দিনের জন্য যাচ্ছেন তার উপর পরিকল্পনা নির্ভর করে। আমার আজকের আলোচনা রোড ট্রিপে যাবার পরিকল্পনা বিষয়ে।

গন্তব্য ঠিক করা:
রোড ট্রিপে যাবার পরিকল্পনার শুরুতে যেটা মাথায় আসে তা হলো গন্তব্য। কোথায় যেতে চান সেটা প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে। গন্তব্য রোমাঞ্চকর হতেই হবে তেমন কোনো কথা নেই। প্রথমবার লম্বা সময় ধরে ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে কিছু ছোট রোড ট্রিপে যাবার অভিজ্ঞতা কাজে দিবে। গন্তব্যের উপর যেমন নির্ভর করে অন্যান্য পরিকল্পনা আবার আপনার ভ্রমণসঙ্গী, সময়, বাজেট এ বিষয়গুলোর উপরও নির্ভর করতে পারে গন্তব্য।

সময় নির্বাচন:
রোড ট্রিপে যাবার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার অথবা আপনার ভ্রমণসঙ্গীদের ছুটি, স্কুল, আবহাওয়ার তারতম্য, থাকার ব্যবস্থা এবং বাজেট। সব মিলিয়ে আপনার লম্বা ট্রিপে যাওয়ার সময় বের করা মুশকিল হতে পারে। ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও দেশগুলোর আয়তন এত বড় যে এলাকা ভেদে আবহাওয়ার বিশাল তারতম্য হতে পারে। পরিকল্পনাহীন রোড ট্রিপ আপনাকে ভুল সময় ভুল অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

সঙ্গী নির্বাচন:
একা একা ভ্রমণ, বন্ধুদের সাথে বা পরিবারের সাথে – কোনটি বেশি প্রশান্তিদায়ক? স্থান, কাল, পাত্র ভেদে নানা জনের নানা মত থাকতে পারে – সে বিতর্কে যাচ্ছি না, বরং পাঠক সিদ্ধান্ত নিবেন তার ভ্রমণসঙ্গী কে হবেন।

রোড ট্রিপে একা একা ভ্রমণ আমাদের সমাজে সবচে কম জনপ্রিয়। ২/১ জনকে ছাড়া আর তেমন কাউকে মনে করতে পারছি না। অনেকে অ্যাডভেঞ্চার করতে চান, কিংবা কোনো বিশেষ কারণে একা একা সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু পশ্চিমা সমাজের অনেক মানুষ আমাদের চারপাশে আছেন যারা একা একা মাসের পর মাস রোড ট্রিপে সময় কাটিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আফরোজা হক জানিয়েছেন, “আমার কাছে রোড ট্রিপ খুবই পার্সোনাল, সেম থিংকিং মাইন্ডেড মানুষের সঙ্গ না হলে গ্রুপে যাওয়ার থেকে আমি একা যাওয়াতে সাচ্ছন্দ বোধ করি। কোথায় থাকছি তার চেয়ে আমরা কি একটিভিটি করছি সেটা বেশি ইম্পরট্যান্ট”।

নানা কারণে আমাদের সমাজে বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ বেশ জনপ্রিয়। অনেকে মনে করেন, বন্ধুদের সাথে সময়টা ভিন্ন ভাবে উপভোগ করা যায় যা পরিবারের সাথে করা যায় না। কেও আবার মনে করেন, পরিবারের সাথে গেলে অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ জায়গাগুলোতে যাওয়া যায় না। কয়েকজন তরুণ দম্পতী জানিয়েছেন অনেক সময় তারা তাদের বন্ধুদের সাথেও রোড ট্রিপে গিয়েছেন।

পরিবারের সাথে, পিতামাতাকে সাথে নিয়ে বা পরিবারের অন্যান্যদের সাথে নিয়েও রোড ট্রিপে যাওয়া যেতে পারে। পারিবারিক কাঠামো, বয়স ভেদে রোড ট্রিপ নির্ভর করে। এর দৈর্ঘ্য কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ সপ্তাহখানেক পর্যন্ত হতে পারে। কয়েকটি পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসলে এভাবে সময় নিয়ে ঘুড়ে বেড়ানো যায় সেটা তারা কখনো ভাবতেই পারেন না। কারণ হিসেবে অনেকেই আর্থিক অবস্থা আর ছুটির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অনেকের আর্থিক অবস্থা আর ছুটি কোনোটাই বিষয় নয়, বিষয় স্বদিচ্ছার, ট্যাবু ভেঙে বার হবার। আমি আমার কলিগ বন্ধুদের দেখেছি, ওরা ১৮ মাস পর্যন্ত ছুটি নিয়ে কারাভানে করে ঘুরে বেড়িয়েছেন, বাচ্চারা হোম স্কুলিং করেছে। এই মুহূর্তে আরেক কলিগ বন্ধু আছেন ইউরোপ, স্বামী আর ১৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে সাইকেলে চেপে ৮ মাসের সফর করছেন।

কত দিনের জন্য যাচ্ছেন:

রোড ট্রিপের দৈর্ঘ্য কয়েকদিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত হতে পারে। আপনি সময় সুযোগ বের করে আপনার সাচ্ছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন। রোড ট্রিপের দৈর্ঘের উপর কিছু বিষয়ের নির্ভর করে – যেমন কোথায় যেতে চান, জব থেকে ছুটির ব্যবস্থা করা, বাচ্চাদের স্কুলিং এবং আরো নানা বন্দোবস্ত। আমার পরিচিতদের মাঝের কয়েক জনকে দেখেছি যারা ৬ মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য গিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তারা, তার বাসাকে শর্ট টার্ম রেন্টালে দিয়েছেন। সেই ভাড়ার খরচে ক্যারাভান ভাড়া করেছেন। আমার অফিসের এক ডিরেক্টরকে দেখেছিলাম বাসা ভাড়া দিয়ে, ক্যারাভান কিনতে। উনার সাথে আলাপে জেনেছি ১৪ মাস ধরে পুরো অস্ট্রেলিয়া ঘুরে এসে ক্যারাভান বিক্রি করে দেবার পর কিছু টাকা উনার পকেটে ছিল।

থাকার ব্যবস্থা:
লম্বা রোড ট্রিপে যারা যান তাদের সিংহভাগ ক্যারাভ্যান ব্যবহার করে থাকেন। কারাভানের জনপ্রিয়তার পর রয়েছে ক্যাম্পারভ্যান। ক্যারাভান, ক্যাম্পারভ্যান ভ্রমণে সাধারণত ক্যাম্প বা ক্যারাভান সাইট বুক করার প্রয়োজন হয়। স্কুল ছুটির দিনগুলোতে অগ্রিম ক্যারাভান সাইট বুক না করলে তখন মোটেল বুকিং করতে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে ক্যারাভ্যান থামিয়ে ক্যাম্পিং করার নিয়ম নেই। ক্যারাভ্যান এবং ক্যাম্পারভ্যান খুব সহজে ভাড়া করতে পারা যায়। স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া নিয়ে কোথাও ঘুরে এসে অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।

অনেকে নিজেদের গাড়ি অথবা ভাড়া নিয়ে রোড ট্রিপে যান। ছোট পরিবার এসইউভি টাইপ কিংবা ভ্যান গাড়িতে খুব সহজেই এক-দুই রাত কাটিয়ে দিতে পারেন। তবে গাড়ি নির্ভর ট্রিপে হোটেল/মোটেল বুকিং না থাকলে অনেকের পক্ষে কষ্ট হয়ে যেতে পারে। হোটেল, মোটেলের তুলনায় অনেক আরামদায়ক কিন্তু রোড ট্রিপের জন্য অনেক ব্যয়বহুল হতে পারে। খরচ আরো কমিয়ে আনতে রোড ট্রিপের কোনো কোনো অংশে ক্যাম্পিং করতে পারেন। ২/৩ ক্যাম্পিং আবার ১/২ দিন মোটেল বা বিএনবি সেভাবে ব্যবস্থা করে নিতে পারেন।

খাবার পরিকল্পনা:
আমাদের অনেকের খাবার ইস্যু আছে। কেউ ভাত খোঁজেন, কেউ হালাল, কেউ ফাস্টফুড অথবা বিলাসী খাবার। এ প্রসঙ্গে রক্ষিত অরুন্ধতী জানিয়েছেন, “অনেককেই দেখি বেড়াতে গেলে ঘোরাঘুরিতে যত না সময় কাটান তার থকে বেশি সময় পার করে দেন পছন্দের খাওয়ার পেছনে।”

বেড়াতে গেলে এনার্জি ড্রিংকস, ফিশ এন্ড চিপস জাতীয় খাবার না খাওয়াই উত্তম। লম্বা রোড ট্রিপে আপনার শরীরে নিউট্রিশনাল ইমব্যালেন্স হতে পারে, সে বিষয় খেয়াল রাখা উচিৎ। রেগুলার মেডিকেল চেকআপ করা হলে নিউট্রিশনাল ট্রেন্ড সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং সে অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়া যায়। পানিতে লবন আয়রন ইত্যাদি থাকে বলে অনেকে নতুন জায়গায় পানি খেতে পারেন না। অনেক সুপার মার্কেটে ১০লিটারের পানির জার কিনতে পাওয়া যায়। এরকম ১/২ টি জার সাথে রাখতে পারেন।

ভ্রমণে স্বাস্থ্যবিধি: কি করবেন, কি করবেন না? এই লিংক থেকে জানুন ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, জিপি, অস্ট্রেলিয়া এবং আসফিয়া আজিম, নিউট্রিশনিষ্ট, বাংলাদেশ

যাদের ভাত ছাড়া চলে না তারা সাথে রাইস কুকার রাখতে পারেন। চাল এবং ২/৪ পদের ডাল মিলিয়ে খিচুরি রান্না করে নিতে পারেন । সাথে সবজি, ডিম, মাছ খেতে পারেন। আজকাল সব সুপারশপের ফ্রোজেন সেক্শনে সব রেডিমেড পাওয়া যায়। ডায়াবেটিকস না থাকলে প্রচুর ফল খেতে পারেন, সাথে শশা, গাজর আর সালাদ।

কানাডাতে বসবাসরত বাংলাদেশি নিউট্রিশনিষ্ট জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “ফ্রেশ পানি, রিহাইড্রেশন ড্রিঙ্কস, শুকনো ফল, নাটবার স্ন্যাকস বার ব্যাগে থাকা জরুরি – পথে কোন হোটেল,রেস্টুরেন্ট বা খাবারের দোকান না পেলে কাজে লাগবে”। তিনি আরো জানান, তিন ঘন্টা পর পর একটু কিছু খেতে পারলে ভালো হয়, নতুবা গ্লুকোজ কমে গিয়ে মাথা ব্যথা, অবসাদ গ্রস্থতা দেখা দিতে পারে, তখন বেড়ানোর মজা হারিয়ে যাবে।

খাবারে প্রোটিন আর কিছু কার্বোহাইডেট এর সোর্স থাকলে ভালো। ডিম সিদ্ধ, চিকেন সিদ্ধ করে গোলমরিচ আর লবন দিয়ে বক্স এ নিলে অল্প রুটি অথবা ক্রাকার দিয়ে লাঞ্চ/ডিনার করা যাবে। সাথে চেরি টমেটো, ছোট শসা,সেলারি থাকলে বেশ ভালো হয়।

সাথে বাচ্চা থাকলে প্রসঙ্গ ভিন্ন। ওদের পুষ্টি চাহিদামত খাবার ওদের দিতে হবে। বিপদের সঙ্গী হিসেবে লং লাইফ মিল্ক, চকলেটে মিল্ক রাখতে পারেন। বাচ্চাদের জন্য চিজ স্টিক, সাথে চিকেন স্যান্ডউইচ, ভিটামিন সি জাতীয় ড্রিঙ্কস হলে ভালো হয়। লম্বা হাইকে গেলে সাথে খেজুর, আপেল এবং কলা নেয়া যেতে পারে। যদিও আজকালকার স্মার্ট বাচ্চাদের কে চকলেট ক্যান্ডি এর বদলে খেজুর দিলে মানবে কিনা ভাবতে হবে!

জান্নাতুল জোর দিয়ে বলেন যে ট্রাভেল করার সময় হাইজিন মেইনটেইন করা সবচে জরুরি। নিশ্চিত করতে হবে যেনো সবাই খাবারের পূর্বে হাত ধুয়ে নিবে অথবা পেপার টাওয়েল দিয়ে ধরে খাবে। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্কার চামচ ব্যবহার করা যাবে।

আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তবে সবাই নির্ভর করে কোথায়, কতদূর, কি উপায়ে যাওয়া হচ্ছে সেটার উপর বিবেচনা করে।

প্রাথমিক চিকিৎসা:

রোড ট্রিপে যাবার আগে অবশ্যই দেখে নেয়া উচিৎ যে গাড়িতে ফার্স্ট এইড বক্স আছে কিনা। যে কোনো মুহর্তে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। একবার আমরা উলুরু বেস ওয়াকে হাটছিলাম। এই বেস ওয়াক প্রায় ১১ কিলোমিটার লম্বা। আমাদের সামনেই এক পরিবারের ৩ সাইকেল আরোহীর একজন হটাৎ করে সাইকেল থেকে পরে গেলেন। থুতনি, হাতের কয়েক জায়গা, ২ হাটু ছিলে রক্তা-রক্তি কান্ড। আমি আরজু আর ওই পরিবারের আরেকজন সবার ফার্স্ট এইড বাক্স থেকে যা পাওয়া যায় সেভাবে চললো তার রক্ত বন্ধ করার কাজ। ভ্রমণের সময় চিকিৎসা সেবা পাওয়া চ্যালেঞ্জিং পারে, তাই গাড়িতে এবং ব্যাকপ্যাকে  সবসময় উপযুক্ত ফার্স্ট এইড বক্স রাখা জরুরী।

আরো বিস্তারিত জানতে অস্ট্রেলিয়ার হেলথ ডিপার্টমেন্টের এই পোস্টটি দেখে নিতে পারেন।

ইভেন্ট ট্যুর বুকিং:
রোড ট্রিপে যাবার আগে দেখে নিন আপনার যাত্রাপথে কোথাও কোনো টিকেট লাগবে কিনা। অনেক স্টেট/টেরিটোরির ন্যাশনাল পার্কে যেতে পাশ লাগে – আগে থেকে টিকেট না কেটে থাকলে পার্কে ঢুকার মুহূর্তে ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন। প্রবেশ ফি দিলে ওরা আপনার কাছে কিউআর কোড পাঠাবে, যেটা স্ক্যান করলে গেট খুলে যাবে। বিনা পাশে ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ করে রেঞ্জারের সামনে পরে গেলে ফাইনের মুখোমুখি হবেন। তেমনিভাবে যদি কোনো হেলিকাপ্টার রাইড, কোনো স্পেশাল ডিনার, কোনো ট্যুর বা বিশেষ কোনো জায়গায় যাওয়ার পারমিশন আগে থেকে না জোগাড় করে রাখলে শেষ মুহূর্তে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। মুঙ্গ ন্যাশনাল পার্কে একটা নির্দিষ্ট জায়গার পর আগে থেকে পারমিশন না জোগাড় করে রাখলে আর যাওয়া যাবে না। আর সেখানে না যেতে পারলে মুঙ্গ ন্যাশনাল পার্ক আসাটাই বৃথা। এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যাবার আগে খোঁজ নিয়ে যাওয়া উচিৎ।

যাত্রাপথ:

আপনি কোন পথে যাবেন এবং ফিরে আসবেন সেটা আগে থেকে ঠিক করে না নিলে ভোগান্তিতে পরতে হতে পারে। অনেকে সময় রাস্তা বন্ধ করে উন্নয়ন কাজ চলে ফলে আপনাকে বিকল্প রাস্তায়, গ্রামের কাঁচা রাস্তায় চলে যেতে হতে পারে। সেখানে যাবার পর মোবাইলের জিপিএস রাস্তা শর্টকাট করতে কোনো বাজে রাস্তায় নিয়ে যেতে পারে।

অনেকে যাত্রাপথে বিভিন্ন পার্ক, নদী, লুক আউট-এ যাত্রা বিরতি করতে পছন্দ করেন । যাত্রা শুরুতে নেটওয়ার্ক থাকতেই দেখে নিতে পারেন পথে কি কি রয়েছে আর সেখানে বিরতি নিবেন কিনা।

ম্যাপ:

আমাদের অনেকেরই জিপিএস অথবা ম্যাপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। অনেকে জিপিএস বলতে মোবাইলে থাকা গুগল ম্যাপ এপ্লিকেশনকেই মনে করেন। মোবাইলে থাকা গুগল ম্যাপ বা জিপিএস মোবাইল নেটওয়ার্কের উপর নির্ভরশীল, কাজেই নেটওয়ার্ক না থাকলে তখন মাপের ডিটেইলস ফিচার দেখা যায় না।

হ্যান্ডহেল্ড জিপিএস ব্যাবহারের সময় লেফর্ট টার্ন – রাইট টার্ন করুন এমন করে বলবে না। জিপিএসে ভালো মানের বেজ ম্যাপ থাকে। জিপিএস স্যাটেলাইটের সাথে কানেক্ট হলেই আপনার অবস্থান সম্পর্কে, সে এলাকার টোপোগ্রাফি, এবং সব ধরণের রাস্তা স্ক্রিনে দেখাবে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য এখানে থাকে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে নেভিগেশনের কাজ করতে পারেন। মোটামুটি ৪০০-৬০০ ডলারে জিপিএস কেনা যায়।

যারা লম্বা সময় রাস্তায় থাকবেন তারা ম্যাপবুক কিনে নিতে পারেন। এগুলোতে পুরো দেশের বিস্তারিত 4WD ট্র্যাক সহ ম্যাপ থাকে। কোথায় গেলে ফুয়েল পাবেন, ক্যাম্পিং/ক্যারাভান সাইট, ন্যাশনাল পার্ক, রেস্ট এরিয়া, টয়লেট ম্যাপ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সূচীকৃত অবস্থায় থাকে। মোটামুটি ৩৫-৬০ ডলারে এ ধরণের বই কিনতে পাওয়া যায় যা খুব কাজের।

ছবিতে: বাঁ দিকে হ্যান্ডহেল্ড জিপিএস এবং ডানদিকে চোরইটজা ন্যাশনাল পার্কের (Tjoritja / West MacDonnell National Park) অনেক অংশে কাঁচা /৪ হুইল রাস্তা এবং মোবাইল নেটওয়াক নেই। এভেঞ্জা ম্যাপসে অফলাইন জিওরেফারেন্সড পিডিএফে নীল ডট দিয়ে আমাদের লোকেশন দেখাচ্ছে।

নানা রকম অ্যাপ রয়েছে যেখান থেকে জিওরেফারেন্সড পিডিএফ ম্যাপ ডাউনলোড করা যায় যেমন হেমা (Hemp Maps), উল্মন (Ulmon – City Maps 2Go), এভেঞ্জা ম্যাপস (Avenza maps) অন্যতম। অ্যাপগুলোতে ২-২৫ ডলার খরচ করে পুরো দেশের ম্যাপ কালেক্ট করতে পারেন। নিজে আর্ক ম্যাপ (ArcMap) অথবা কিউজিআইএস (QGIS) সফটওয়্যার ব্যবহার করে ম্যাপ বানিয়ে নিলে তাতে কোনো খরচ হবে না এবং সেটাও এভেঞ্জা ম্যাপসে আপলোড করে নিতে পারবেন।

এছাড়াও, অনলাইন থেকে ম্যাপ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন। বিভিন্ন ভিজিটর ইনফরমেশন সেন্টার থেকেও ম্যাপ সংগ্রহ করতে পারেন। 

যানবাহন নির্বাচন:

আগেই বলেছি লম্বা রোড ট্রিপে ক্যারাভ্যান, ক্যাম্পারভ্যানের বিকল্প নেই। আমার এক কলিগ বন্ধুকে দেখেছি পুরোনো বাস কিনে প্রায় বছর সময় লাগিয়ে সেটাকে ক্যাম্পারভ্যানে রূপ দিয়েছেন। রাস্তায় অনেকে দম্পতিদের দেখেছি যারা এসইউভি বা ভ্যানকে ক্যাম্পারভ্যানে রূপান্তর করেছেন। এভাবে তারা বেশ কয়েক হাজার ডলার খরচ বাঁচিয়েছেন। অভিজ্ঞতার জন্য ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করাই সবচে সহজ কাজ। ক্যারাভ্যান টানতে ভালোমানের গাড়ির প্রয়োজন। এসইউভি টাইপ গাড়ি এক্ষেত্রে সবচে কাজের। গাড়ি যেটাই হোক না কেন সেটা অবশ্যি রোড-ওয়ার্থী হতে হবে যেন কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ চালানোর জন্য উপযুক্ত থাকে।

ফোর হুইল ড্রাইভ:
রোড ট্রিপে ফোর হুইল ড্রাইভ গাড়ির দরকার নেই যদি আউটব্যাকে যাবার কোনো পরিকল্পনা না থাকে। অস্ট্রেলিয়ার অনেক স্টেট এবং টেরিটোরিতে বেড়াতে গিয়ে ফোর হুইল ড্রাইভে না গেলে আপনার দেখাটা পূর্ণ হবে না। বলছি মারি সানসেট ন্যাশনাল পার্ক, মুঙ্গ ন্যাশনাল পার্ক, ফিনকে গর্জ ন্যাশনাল পার্ক (Finke Gorge National Park), কেপ ইয়র্কের কথা। ফোর হুইল ড্রাইভ না থাকলে আউটব্যাকে গিয়ে বালিতে বা কাদায় আটকে যেতে পারেন এবং রিকভারির জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হবে। কাজেই কোথায় যাবেন আর কোথায় যাবেন না ভাবুন।

কার রেন্টাল:

অনেকে লম্বা দুরত্ব খানিকটা কমাতে প্লেন দিয়ে গিয়ে স্থানীয় ভাবে গাড়ি ভাড়া করেন (যদিও এটাকে রোড ট্রিপ বলা যায় না) অথবা নিজের গাড়ির মাইলেজ ঠিক রাখতে গাড়ি ভাড়া করে রোড ট্রিপে যান, ক্যারাভান ক্যাম্পারভ্যানের ক্ষেত্রে তো কোনো কথাই নেই । গাড়ি ভাড়া করার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিৎ যেমন কোন সাইজ বা ধরণের গাড়ি গাড়ির আপনার প্রয়োজন। অযথা বড়ো সাইজের গাড়ি আপনার বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে অথবা অপরদিকে ছোট গাড়ি আপনার স্বস্তিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
গাড়ি ভাড়া করার ক্ষেত্রে যতটা আগে পারা যায় বুকিং করে ফেলা উচিৎ। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় উপযুক্ত গাড়ি নাও পেতে পারেন, খরচ বেশি হতে পারে অথবা খানিকটা দূর থেকে পিক-আপ করতে হতে পারে।
তবে সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইন্সুরেন্সের ব্যাপারটা ভালো ভাবে বুঝে নেয়া। অনেক সময় বাচ্চারা ট্রাভেল করতে পারে, কার সিট দেয়া আছে কিনা, জিপিএস আছে কিনা, টোল রাস্তায় যেতে পারবেন কিনা ইত্যাদি সহ এমন আরো অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলোও মাথায় রাখা প্রয়োজন।

কার সার্ভিস:

লম্বা রোড ট্রিপে যাবার আগে অবশ্যই গাড়ি সার্ভিস করিয়ে নিতে হবে। ব্রেক প্যাড, টায়ার, ইঞ্জিন অয়েল, কুলেন্ট, টাইমিং বেল্ট এবং ব্যাটারী চেক না করে রোড ট্রিপে রোড ট্রিপে যাওয়া যাবে না। কত লম্বা ট্রিপে যাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে কোনো শহরে গাড়ি সার্ভিস করিয়ে নিতে হতে পারে। সাধারণত প্রতি ১০,০০০ – ২০,০০০ কিলোমিটারে গাড়ি সার্ভিস করতে হয়। গাড়ির টায়ার প্রেসার, ইনডিকেটর লাইট প্রতিদিন চেক করা উচিৎ। এছাড়া গাড়িতে কোনো লিক আছে কিনা, গাড়ির নিচের ফ্লোরে উঁকি দিলে বোঝা যায়। এ কাজটাও প্রতিদিন করা উচিৎ।

ফোন:

ভুলে না গেলে ফোন না নিয়ে বাসা থেকে বার হন না এমন কাউকেই পাওয়া যাবে না। তবে অনেক জায়গায় নেটওয়ার্ক থেকে না, সে ক্ষেত্রে সবচে ভালো নেটওয়ার্ক যে প্রোভাইডারের তাদের টেম্পোরারি সিম নেয়া যেতে পারে। অফ রোডের জন্য অনেকেই স্যাটেলাইট ফোন বা ইউএইচএফ রেডিও (UHF radio) সাথে রাখেন। সাধারণ মানের রেডিওর রেঞ্জ ৩,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই রেডিও ব্যবহার করে একই চ্যানেলের অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করার যায়। মোবাইল ফোনের চার্জার নিতে যেন ভুল না হয়, তাহলে অযথা দ্বিগুন মূল্যের রাস্তা থেকে কিনতে হতে পারে।

গাড়ি চালানো:

আপনি যে দেশে গাড়ি চালাচ্ছেন সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন। অযথা জোরে গাড়ি চালিয়ে, ওভারটেকিং করে নিজের এবং রাস্তায় থাকা অন্যান্যদের জন্য বিপদের কারণ হবেন না।

লম্বা রোড ট্রিপ খুব সহজেই ক্লান্তি এনে দেয়। অবসাদ এড়াতে অনেকে কফি, এনার্জি ড্রিঙ্কস পান করে আরো অবসাদগ্রস্থ হয়ে যান। রোড ট্রিপে অবশ্যই প্রতি ২/৩ ঘন্টা পর পর বিরতি নেয়া উচিত। সাথে আসা অন্য ড্রাইভারের সাথে নির্দিষ্ট বিরতিতে ড্রাইভ শেয়ার করা সবচে ভালো কৌশল। হাইওয়েতে গাড়ি চালাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া উচিৎ। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় বন্যপ্রাণীরা রাস্তায় চলে আস্তে পারে। এ সময় কোথাও থেমে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্যাগ গোছান:

কয়েকজন মিলে গাড়িতে করে রোড ট্রিপে গেলে জায়গার সংকুলান হওয়া মুশকিল। ক্যারাভান, ক্যাম্পারভ্যানে তুলনামূলক ভাবে অনেক জায়গা থাকে। গাড়িতে রুফ রেক বাস্কেট (Roof Rack Basket) বা ক্যরিয়ার (carrier) যুক্ত করে নিলে সাথে অনেক জিনিস নিতে পারেন। ব্যাগ গোছানো নির্ভর করে আপনার প্রয়োজন, রুচি, ফ্যাশন সচেনতার উপর। আমাদের কালচারের অনেকেই পরিবারের সবাই রং মিলিয়ে জামা কাপড় পড়েন, মেয়েরা শাড়ি পড়তে চান ইত্যদি ইত্যাদি।

তবে আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বাড়ার সাথে সাথে ব্যাগের সাইজ কমে যাবে নিশ্চিত। অনেকের ক্ষেত্র তাই হয় এবং আমাদের ক্ষেত্রও তাই হয়েছে। তবে ব্যাগে কি কি নেয়া যাবে তার একটা পূর্ব পরিকল্পনা থাকলে ভালো হয়।

হাউস সিটার:

হাউস সিটার হলো এমন এক ব্যাক্তি যিনি বাড়ির মালিকের অবর্তমানে বাড়ির দেখাশোনা করেন। হাউস সিটাররা পেইড অথবা নন-পেইড হতে পারেন। থাকার জন্য আকর্ষণীয় জায়গা, অন্যান্য সব সুবিধা এবং অভিজ্ঞতার বিনিময় করা যায় বলে অনেকে এই সুবিধা নেন। অনেক হাউস সিটার বছরের পর বছর অন্যের বাড়িতে থেকে নিজের খরচে বাঁচিয়ে নেন। বাড়ির মালিকের অবর্তমানে হাউস-সিটার থাকলে বাসার নিরাপত্তা বজায় থাকে, বিশেষ করে চুরি হওয়া, ভ্যান্ডালিজমের থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

অনেক হাউস সিটার পোষা প্রাণীদের যত্ন নেন এবং বাগানে পানি দিয়ে থাকেন। হাউস সিটার নিয়ে চমৎকার একটা মুভি আছে “Man Vs Bee“, যারা দেখেননি তারা অবশ্যই দেখবেন।

পোষা প্রাণীদের জন্য ব্যবস্থা:

অনেক হাউস সিটার পোষা প্রাণীদের যত্ন ঠিকভাবে নাও নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একজন পেট সিটার লাগতে পারে । অনেকের বাড়িতে কুকুর, বিড়াল, সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকি, কাছিম, নানা রকমের পাখি, ঘোড়া এবং আরো নানা রকমের পোষা প্রাণী থাকে। প্রাইভেসি কারণে অনেকে পেট সিটারের পরিবর্তে পেট হোস্টেলে তাদের পোষা প্রাণীদের রেখে যেতে পছন্দ করেন। পোষা প্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিতেপারলে রোড ট্রিপ ক্যানসেল করতে হতে পারে।

এই ইমেজটি ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগ থেকে নেয়া হয়েছে। ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগের ছবি থেকে আপনার পছন্দসই ছবি পেপার প্রিন্ট, ফাইন আর্ট প্রিন্ট, ওয়াল আর্ট এবং ডেস্ক আর্ট হিসাবে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা ছবি কেনাকাটা করলে আমরা অল্প পরিমাণ কমিশন পাব, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যবহার হবে।

সঠিকভাবে গাড়ি প্যাকিং:

রোড ট্রিপে যাওয়ার অন্যতম আলোচনার বিষয় এটি। ইউটিউব এবং বিভিন্ন ব্লগে হাজারো আর্টিকেল রয়েছে এই বিষয়ে। এর মধ্যে একটি আর্টিকেল “65 Road Trip Essentials and Packing List for Hitting the Road” উল্লেখযোগ্য। রোড ট্রিপে কি নিবেন আর কি নিবেন না তা নির্ভর করে পুরো ট্যুর পরিকল্পনার উপর। এখানে ওনেক গুলো ফ্যাক্টর কাজ করে এবং একেক জনের জন্য ব্যাপারটা একেক রকম। শত লাইন লিখেও অন্য কারো জন্য পরিকল্পনা লেখার গাইডলাইন বানানো যাবে না। আপনি কতটুকু ছাড় দিবেন, মানিয়ে নিবেন সেটা একান্তই আপনার নিজের ব্যাপার। আপনার সাচ্ছন্দ মতো আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস গাড়িতে তুলবেন।

এই ইমেজটি ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগ থেকে নেয়া হয়েছে। ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগের ছবি থেকে আপনার পছন্দসই ছবি পেপার প্রিন্ট, ফাইন আর্ট প্রিন্ট, ওয়াল আর্ট এবং ডেস্ক আর্ট হিসাবে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা ছবি কেনাকাটা করলে আমরা অল্প পরিমাণ কমিশন পাব, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যবহার হবে।

জরুরী অবস্থার জন্য প্রস্তুতি:

অনেকেই রোড ট্রিপে গিয়ে নানা ঝামেলায় পড়েন। আমার ছেলের বন্ধুর মা পরিবার সহ মেলবোর্নে থেকে রোড ট্রিপে নর্থান টেরিটরির বিভিন্ন ন্যাশনাল পার্কে বেড়াতে গিয়েছেন। ৬ সপ্তাহে প্রায় ১৫,০০০কিলোমিটার লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। একবার রাস্তার মধ্যে উনাদের ফুয়েল শেষ হয়ে যায়। রাস্তায় হাত উঁচিয়ে, অন্য গাড়ি থেকে ফুয়েল ধার নিয়ে পরবর্তী পাম্প পৰ্যন্ত গিয়েছিলেন। এতে সময় নষ্ট হয়েছিল অনেক তবে যেটা হয়েছিল সবচে বেশি তা হলো মানসিক বিড়ম্বনা।

নানা বিড়ম্বনা এড়াতে গাড়িতে অবশ্যই ফার্স্ট এইড কীট, টর্চ লাইট, টয়লেট পেপার, খাবার পানি, জাম্প স্টার্ট কেবল, ছোট টুলবাক্স, রান্নার জিনিসপত্র, ম্যাচ, অগ্নিনির্বাপক বোতল ইত্যাদি সাথে রাখবেন। রোড সাইড এসিটান্সে এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস মেম্বারশিপ এগুলো না থাকলে অবশ্যই যাবার আগে করে নিবেন।

সর্বদা সাবধানে থাকতে হবে যেন জরুরী অবস্থার সৃষ্টি না হয়। যদিও অনেক সময় জরুরী অবস্থার নিজের অজান্তেই চলে আসতে পারে। কাজেই জরুরী অবস্থার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকা বিশেষ প্রয়োজন।

আপনার অবস্থান:
কোনদিন কোথায় যাচ্ছেন তা আপনার পরিচিতদের মাঝে শেয়ার করুন। আপেল এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আপনার লোকেশন শেয়ার করে (Share your location with your family) রাখতে পারেন। দিনের শুরুতে এবং দিনের শেষে রিপোর্ট করার মতো অভ্যেস গড়ে তুলুন। আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে না এলে আপনার পরিবার ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সহায়তা নেবেন এ জাতীয় পরিকল্পনা থাকা বেশ জরুরি।

বাড়ি ছাড়ার আগে:
শেষ মুহূর্তে বাড়ি ছাড়ার আগে সবকিছুতে চোখ মিলিয়ে নিতে হবে। একবার সপ্তাহখানেক সময় রোড ট্রিপ থেকে ফিরে এসে দেখা গেলো বাসার পেছনের দিকের দরজা খোলা। মেলবোর্ন বলে হয়তো রক্ষা, কাজেই বাড়ির সব গেট বন্ধ হলো কিনা, এলার্ম অন করা হলো কিনা, পেট সিটার, হাউস সিটারকে বাসার চাবি দেয়া হলো কিনা এমন অনেক বিষয় রয়েছে। 

এতো লম্বা পরিকল্পনা পড়ে নিজেকে আচ্ছন্ন করে ফেলবেন না । আসলে অভ্যাসবসত অনেক কাজ আমরা এমনিতেই করে থাকি, পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বিষয়টি আলোচনা না আনলে মনের অজান্তে ভুল হয়ে যেতে পারে। ছোট ভুল ছোট বিড়ম্বনা দেয়, কিন্তু ছোট ছোট বিড়ম্বনা মিলিয়ে কোন একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

ভ্রমণে সবার নিরাপত্তাই আমাদের কাম্য।

 

ঘুরুঞ্চি ম্যাগাজিনের সকল কর্মকান্ড নট ফর প্রফিট, স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে সকল কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অত্যন্ত ভরাক্রান্ত মনে জানাতে হচ্ছে যে আমাদের সম্মানিত লেখকদের জন্য কোনো তহবিল এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নেই। অদূর ভবিষ্যতে তহবিল গঠন করতে পারা গেল এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

 

ঘুরুঞ্চির ওয়েবসাইট পরিচালনা করতে আমাদের সপ্তাহে ৮-১২ ঘন্টা কাজ করতে হয়। বর্তমানে আমাদের কাজ শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবক এবং স্ব-অর্থায়নের উপর নির্ভর করে। আপনারা ঘুরুঞ্চিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনুদান দিয়ে, স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।

ঘুরুঞ্চির ভ্রমণ ছবি ব্লগের ছবি থেকে আপনার পছন্দসই ছবি পেপার প্রিন্ট, ফাইন আর্ট প্রিন্ট, ওয়াল আর্ট এবং ডেস্ক আর্ট হিসাবে কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনারা ছবি কেনাকাটা করলে আমরা অল্প পরিমাণ কমিশন পাব, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যাবস্থার হবে, যা ঘুরুঞ্চির ক্রমবিকাশ এবং সম্প্রসারে ব্যবহার হবে।

আমরা আপনার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।